মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে চট্টগ্রামকে ১নংসেক্টরের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এই সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসীর অবদান অবিস্মরণীয়। ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামকে ৪টি অংশে ভাগ করে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহর এলাকার দায়িত্ব নেন জনাব জহুর আহমদ চৌধুরী, জনাব এম. এ. মান্নান ও জনাব আক্তারুজ্জামান চৌধুরী। কালুরঘাট এলাকার দায়িত্ব নেন জনাব এম. এ. হান্নান, জনাব আতাউর রহমান খান কায়সার, ডাঃ এম এ মান্নান ও ডাঃ আবু জাফর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দায়িত্ব নেন জনাব এম এ ওহাব। শুভপুর এলাকার দায়িত্ব নেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এবং তাঁর সহকর্মীরা। উল্লেখ্য যে, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চট্টগ্রামে একটি প্রশাসনিক জোন ছিল, যার প্রধান ছিলেন জনাব জহুর আহমদ চৌধুরী (প্রাক্তন মন্ত্রী)।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন জনাব এম. আর. ছিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জনাব এম. এ. হান্নান। ২৬ শে মার্চে চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ বিস্তারিত আলোচনার পর বেতারে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন। ইতোপূর্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে বাংলা ও ইংরেজীতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রচারপত্রের মাধ্যমে বিলি করা হয়। ২৬ শে মার্চ দুপুর ২টা থেকে ২:৩০টার মধ্যে কোন এক সময়ে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নান কালুরঘাটস্থ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে বেতারের কালুরঘাটস্থ সম্প্রচার কেন্দ্র ‘‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’’ হিসেবে কাজ শুরু করে।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ২৬ শে মার্চ তারিখে তিনটি অধিবেশন হয়। ১ম অধিবেশনটি হয় আনুমানিক দুপুর ১২ টা হতে ১টা পর্যন্ত। অধিবেশনটি ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্বের এবং এতে উপস্থিত ছিলেন জনাব এম. এ. হান্নান, ডাঃ এম এ মান্নান, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, জনাব রাখাল চন্দ্র বণিক, জনাব শাহ্-ই-জাহান চৌধুরীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ২য় এবং ৩য় অধিবেশন ছিল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের। জনাব বঙ্গলাল দেব চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন দুটি যথাক্রমে বিকেলে এবং রাতে অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ শে মার্চ তারিখ সকালে মেডিকেল কলেজের ছাত্র নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে আরেকটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকালের অধিবেশন পরিচালিত হয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে। জাতির পিতার পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠসসহ এভাবেই স্বাধীনতার পরবর্তী সম্প্রচার কার্যক্রম চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে সূচিত হয়।